প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২১ বছর ও ১৫ ম্যাচ অপেক্ষার পর চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে অজিদের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টানা দুই জয় নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সিরিজও জেতার মহাকাব্য লিখল টিম টাইগার্স। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৩৮ বছর পার করা বাংলাদেশ এই সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র একবারই হারাতে পেরেছিল। কার্ডিফে ২০০৫ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের বীরত্বপূর্ণ সেই ম্যাচের পর এবার এক সিরিজেই ২ জয় পেল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শুরু, এরপর পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড, এবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ওয়ানডেতে টানা চতুর্থ সিরিজ জিতল টিম টাইগার্স। ২০২৩-২৪ সালে শ্রীলঙ্কাকেও ঘরের মাঠে হারায় লাল-সবুজের দল। আর সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে ঘরের মাঠে নিশ্চিত করল টানা ৫ সিরিজ জয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় এই ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ছোট হয়ে আসা ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান করে। ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ৪১ ওভারে ১৯২ রান। ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই এই রান পেরিয়ে যায় টাইগাররা। ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে অস্ট্রেলিয়া। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে করার পর বৃষ্টির হানায় বাকি ৮ ওভার ব্যাট করার সুযোগ হয়নি তাদের। সিরিজ জয়ের পথে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। জবাবে নেমে ৩৬ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে বাংলাদেশ।

রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে তানজিদ তামিমকে ফিরতি ক্যাচে ফেরান জাভিয়ের ব্রেটলেট। রানের খাতা খোলার আগে প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশকে চাপমুক্ত করেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮৬ রানের জুটি গড়েন দুজনে। ১৫.৫ ওভারে সৌম্য সরকার ম্যাট রেনশ’র বল রিভার্সসুইপ খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ব্রেটলেটের হাতে। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ বলে ৪২ রান করেন। ১৮.১ ওভারে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান মের্ডিথ। জশ ইংলিশের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫ চারে ৫৩ বলে ৪২ রান করে।

২৩.২ ওভারে দলীয় ১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় সফরকারীরা। ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সার লিটনের গ্লাভসে লেগে যায় ইংলিশের গ্লাভসে। ৩ চারে ১৮ বলে ২১ রানে ফেরেন লিটন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৪৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অ্যাডাম জাম্পার বলে লংঅফে কুপার কনোলির হাতে ধরা পড়েন মোসাদ্দেক হোসেন। ৩ চারে ১৪ বলে ১৫ রান করেন। পরে তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজের অবিচ্ছিন্ন ৪৯ বলে ৫১ রানে জুটিতে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। হৃদয় ২ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ বলে ৪০ রানে এবং ১টি করে চার ও ছক্কায় ২২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়া বোলারদের মধ্যে একটি করে উইকেট নেন ব্রেটলেট, মেরিডিথ, জাম্পা, রেনশ ও ক্যামেরন গ্রিন।

এর আগে ব্যাটে নেমে ইনিংসের চতুর্থ বলে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথিউ শর্ট। দ্বিতীয় ওভারে এসে মোস্তাফিজুর রহমান জোড়া শিকার তুলে নেন। ওভারের প্রথম বলে কুপার কনোলি এবং শেষ বলে মেট রেনশকে ফেরান। দুজনে লিটনের গ্লাভসে ধরা পড়েন। রানের খাতা খোলার আগে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারী দল। চতুর্থ উইকেটে ২৫ রান যোগ করেন অ্যালেক্স ক্যারি ও জশ ইংলিশ। ৭.৩ ওভারে ক্যারিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন, করেন ১৭ বলে ১৩ রান।

১৭.১ ওভারে ৬৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় সফরকারীরা। তানজিদ তামিমের ক্যাচ বানিয়ে জশ ইংলিশকে ফেরান তানভীর। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৩৪ রান করেন অজি অধিনায়ক। ২১.১ ওভারে ৮১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় অজিরা, ফেরেন ক্যামেরন গ্রিন। ১ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ বলে ২৫ রান করে। চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়ার হাল ধরেন লাবুশেন ও ব্রেটলেট। দুজনে যোগ করেন ১০৩ রান। ৪০.২ ওভারে ব্রেটলেটকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাসকিন। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ বলে ৫২ রান করে যান তিনি। পরের বলে গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে অ্যাডাম জাম্পাকেও ফেরান টাইগার পেসার।

৪২তম ওভারের খেলা শেষে বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি নামার আগে অজিদের সংগ্রহ ছিল ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান। লাবুশেন ৩ চারে ৮৫ বলে ৫৫ রানে এবং নাথান এলিস ৫ বলে ২ রানে মাঠ ছাড়েন। দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে নামা বৃষ্টি থামে বিকেল চারটার পর। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকায় কাটা হয় ওভার। ফলে অজিদের আর ব্যাটে ফেরা হয়নি। বৃষ্টি আইনে টাইগারদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ও মোস্তাফিজ ৩টি করে উইকেট নেন। তানভীর ইসলাম নেন ২ উইকেট।