॥ মুন্সী আবু আহনাফ ॥
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদগুলোর একটি। পেনিসিলিন আবিষ্কার থেকে শুরু করে ক্যান্সারের জীনভিত্তিক চিকিৎসা পর্যন্ত বিজ্ঞান বারবার প্রমাণ করেছে যে মানুষ অসাধ্য সাধন করতে পারে। কিন্তু এই একই বিজ্ঞানকে যখন কর্পোরেট মুনাফার হাতিয়ার করা হয়, তখন তা পরিণত হয় এক ভয়ংকর অস্ত্রে। রে ময়নিহানের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Selling Sickness’ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো আতঙ্কজনক। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ কোম্পানিগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রভাবিত করছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে কলুষিত করছে এবং সুস্থ মানুষকে রোগী বানানোর চক্রান্তে লিপ্ত হচ্ছে; সেই ভয়াবহ বাস্তবতাই এই প্রবন্ধের বিষয়। এই মতামত কলামে আমরা আলোচনা করব ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের গভীরে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির স্বরূপ, এফডিএ-র উপর কর্পোরেট প্রভাব, রোগ-উৎপাদনের (Disease Mongering) বৈশ্বিক কৌশল এবং বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব।
এক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিবেচিত। এফডিএ যদি কোনো ওষুধকে অনুমোদন দেয়, তাহলে সারা বিশ্বে সেই ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো; এই অনুমোদন প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ? ১৯৯২ সালে মার্কিন কংগ্রেস ‘Prescription Drug User Fee Act (PDUFA)’ পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে এফডিএ-র ওষুধ-মূল্যায়ন বিভাগের অর্থায়নে অবদান রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে এফডিএ-র ওষুধ পর্যালোচনা বিভাগের প্রায় ৪৫ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশ বাজেট আসে সরাসরি ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে। ড. পল স্টোলি, যিনি একসময় এফডিএ-তে কর্মরত ছিলেন, তাঁর অভিজ্ঞতায় উল্লেখ করেছেন যে এই অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা সংস্থাটিকে কার্যত শিল্পের কাছে জিম্মি করে ফেলেছে। যারা বেতন দেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যে কতটা কঠিন; তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লট্রোনেক্স (Lotronex) হলো ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের (IBS) চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ, যা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (GSK) তৈরি করেছিল। ২০০০ সালে এফডিএ এই ওষুধটি অনুমোদন দেয়। কিন্তু বাজারে আসার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ওষুধটি সেবনে মৃত্যু ও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর আসতে শুরু করে।
সরকারি কমিটির এক বৈঠকে দেখা গেল, জিএসকে-র কর্মকর্তারা এফডিএ-র নিজস্ব বিজ্ঞানীদের গবেষণাকে সরাসরি আক্রমণ করছেন, আর সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা দর্শকের ভূমিকায় নির্বাক হয়ে বসে আছেন। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘পাবলিক সিটিজেন’-এর উদ্ধার করা গোপন নথি থেকে জানা যায় যে ওষুধটি একটি সাধারণ প্লাসিবোর (Placebo) চেয়ে খুব একটা কার্যকর ছিল না। তবুও এফডিএ দীর্ঘ সময় ধরে এটি বাজার থেকে তুলে নিতে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ২০০০ সালের নভেম্বরে ব্যাপক জনসমালোচনার মুখে ওষুধটি প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু ২০০২ সালে আবার অনুমোদন দেওয়া হয়; এবার আরও সীমিত পরিসরে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, শিল্পের চাপের কাছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কতটা নমনীয় হতে পারে।
দুই. একটি ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ভিত্তি হওয়া উচিত নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও এখন নানান কারসাজি শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালে ‘New England Journal of Medicine’-এ প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা যায়, এফডিএ-তে নিবন্ধিত ৭৪টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্যে ইতিবাচক ফলাফলের ৯৭ শতাংশই প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু নেতিবাচক বা অনিশ্চিত ফলাফলের মাত্র ১৪ শতাংশ প্রকাশিত হয়েছে। এই ‘পাবলিকেশন বায়াস’ চিকিৎসক ও রোগী উভয়কেই একটি বিকৃত চিত্র দেখায়। লট্রোনেক্সের ক্ষেত্রে বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত মূল গবেষণাপত্রটির ছয়জন লেখকের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির কর্মচারী। অর্থাৎ, যারা ওষুধটি তৈরি করেছে, তারাই এর ‘নিরপেক্ষ’ মূল্যায়ন করেছে; এটি সুস্পষ্ট স্বার্থের দ্বন্দ্ব। ‘ঘোস্ট-রাইটিং’ ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের একটি প্রতিষ্ঠিত কৌশল। এতে ওষুধ কোম্পানি তাদের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দিয়ে গবেষণাপত্র লিখিয়ে, তারপর বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন গবেষকদের দিয়ে তা ‘সই’ করিয়ে নেয়। ২০০৮ সালে ওয়াইথ ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে আইনি মামলায় প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, কোম্পানিটি প্রায় ২৬টি ঘোস্ট-লেখা প্রবন্ধ মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে প্রকাশ করিয়েছিল। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট প্যারোক্সেটিনের (Paroxetine) ক্ষেত্রে ‘Studz ৩২৯’ নামক একটি বিখ্যাত কেলেঙ্কারি আছে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় মূলত নেতিবাচক ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু স্মিথক্লাইন বিচামের (বর্তমান জিএসকে) অর্থায়নে পরিচালিত ও ঘোস্ট-রাইটিংয়ের মাধ্যমে তৈরি গবেষণাপত্রটিতে ওষুধটিকে ‘কার্যকর ও নিরাপদ’ বলে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
তিন. ‘Disease Mongering’ বা রোগ-উৎপাদন হলো ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সবচেয়ে সূক্ষ্ম এবং ভয়াবহ কৌশলগুলোর একটি। এর মূল লক্ষ্য হলো সুস্থ মানুষকে বা সাধারণ জীবনের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতাগুলোকে ‘রোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ওষুধের বাজার সম্প্রসারিত করা। স্মিথক্লাইন বিচাম ১৯৯৯ সালে ‘সোশ্যাল অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ (SAD)-কে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া প্রচারণা চালায়। প্রচারণার মূল বার্তা ছিল: ‘আপনি কি সামাজিক পরিস্থিতিতে লাজুক বোধ করেন? এটি একটি রোগ, এবং এর চিকিৎসা আছে।’ সেই চিকিৎসাটি ছিল প্যাক্সিল; কোম্পানিটির নিজস্ব ওষুধ। প্রচারণাটি এতটাই সফল হয়েছিল যে মাত্র এক বছরের মধ্যে বিক্রয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। অথচ লাজুকতা মানুষের স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বের একটি বৈশিষ্ট্য। এটিকে প্যাথলজি হিসেবে নির্মাণ করা হলো শুধুমাত্র বাণিজ্যিক স্বার্থে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণকারী স্ট্যাটিন ওষুধের ক্ষেত্রে ঘটেছে আরেকটি কৌশলী মহাকা-। ২০০৪ সালে মার্কিন কোলেস্টেরল বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল এলডিএল (LDL বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল)-এর নিরাপদ মাত্রা ১৩০ mg/dL থেকে কমিয়ে ৭০ mg/dL-এ নামিয়ে আনে। রাতারাতি কোটি কোটি মানুষ ‘উচ্চ-ঝুঁকির’ রোগীতে পরিণত হয়ে যায়। পরে জানা যায়, সেই প্যানেলের নয়জন বিশেষজ্ঞের আটজনেরই স্ট্যাটিন প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর সাথে আর্থিক সম্পর্ক ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্ট্যাটিনের বার্ষিক বাজার কয়েক বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) নির্ণয়ের হার গত দুই দশকে অভূতপূর্বহারে বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশ শিশু এই রোগে ‘আক্রান্ত’ বলে চিহ্নিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করেন, এই শিশুদের অনেকেই সাধারণ সক্রিয়তার কারণে ভুলভাবে চিহ্নিত হচ্ছে। রিটালিন ও অ্যাডেরালের মতো উদ্দীপক ওষুধের ব্যবসায়িক প্রচারণা এই রোগ নির্ণয়কে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুর মস্তিষ্কে শক্তিশালী উদ্দীপক ওষুধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।
চার. ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প চিকিৎসকদের সাথে একটি জটিল সম্পর্ক তৈরি করে রেখেছে। বিনামূল্যে নমুনা, সম্মানী বক্তৃতা, সম্মেলনে আতিথেয়তা; এই সবকিছু মিলিয়ে একটি অদৃশ্য বন্ধন তৈরি হয়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব চিকিৎসক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিত সাক্ষাৎ করেন, তাদের প্রেসক্রিপশনে নতুন ব্র্যান্ড-নেম ওষুধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রোগীর চিকিৎসাকে প্রভাবিত করে। বিশ্বের বহু দেশে এখন চিকিৎসকদের ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে উপহার ও সম্মানি গ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে ফ্রান্স ‘Bertrand Act’ পাস করে এই সম্পর্ককে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্বে এই নিয়ন্ত্রণ এখনও অনুপস্থিত।
ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের একটি বিশেষ কৌশল হলো ‘কী অপিনিয়ন লিডার’-দের ব্যবহার। এরা হলেন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় বা হাসপাতালের মর্যাদাসম্পন্ন চিকিৎসক, যাদের ওষুধ কোম্পানি মোটা সম্মানিতে বক্তৃতা দিতে, গবেষণাপত্রে নাম রাখতে বা মিডিয়ায় মন্তব্য করতে ব্যবহার করে। এই সম্মানিত চিকিৎসকরা যখন কোনো ওষুধের পক্ষে মতামত দেন, তখন হাজার হাজার সাধারণ চিকিৎসক তাদের অনুসরণ করেন। এটি একটি সুচতুর বিপণন কৌশল যা বৈজ্ঞানিক মতামতের মুখোশ পরে থাকে।
পাঁচ. বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। দেশে প্রায় ২৫০টিরও বেশি নিবন্ধিত ওষুধ কোম্পানি রয়েছে এবং বাংলাদেশ এখন ওষুধ রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালেও কিছু উদ্বেগজনক বাস্তবতা রয়েছে। বাংলাদেশে ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হলো ‘ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর’ (ডিজিডিএ)। কিন্তু জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সব ওষুধের যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বাজারে ভেজাল ও নি¤œমানের ওষুধের অস্তিত্ব একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়াও, বাংলাদেশে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি পর্যাপ্তভাবে কার্যকর নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ওষুধের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিকে কঠিন করে তোলে। বাংলাদেশে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ, উপহার এবং অন্যান্য আতিথেয়তার মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন প্রভাবিত করার চেষ্টা এখানেও বিদ্যমান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী আচরণবিধি দরকার, যেখানে চিকিৎসকদের ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এই বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
পরিশেষে: ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প মানবজাতির জন্য অনেক কল্যাণ করেছে; এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু যখন মুনাফার লোভ বিজ্ঞানকে গ্রাস করে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা শিল্পের দাসে পরিণত হয় এবং সুস্থ মানুষকে রোগী বানানো হয়; তখন এই শিল্প একটি ভয়ংকর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। রে ময়নিহান এবং ড. পল স্টোলির মতো মানুষেরা যে সাহস দেখিয়ে এই তথ্যগুলো সামনে এনেছেন, তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়; বিজ্ঞানের নামে যা ঘটছে তার সবকিছুই বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমাদের দরকার সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি, স্বাধীন গবেষণা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য একটি মৌলিক মানবাধিকার। একে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। মানুষের জীবন ও মুনাফার মধ্যে যখন পছন্দের প্রশ্ন আসে, তখন মানুষের জীবনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে; এটিই হওয়া উচিত আমাদের সামগ্রিক প্রতিশ্রুতি।