দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণার ফলাফলে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ বিভাগীয় পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে।’
তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের সমাজের মূলধারায় পুনর্বাসন করা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টিকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে।’ এতে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে র্যালি, আলোচনা সভা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদক আইন দিয়ে চোরাকারবারিদের দমন করা যাচ্ছে না। আইনটি সংশোধন করে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুতই সংসদে উত্থাপন করা হবে।
মাদক চক্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদেরও অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।ঢাকায় প্রায় ৮০ হাজার এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য মাদক মামলা ঝুলে রয়েছে। এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রায় ১,৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫0 শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে।চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭৩টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
৩. আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস ২০২৬আগামী ২৬ জুন "মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস" উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মূল অনুষ্ঠান এবং মৎস্য ভবন থেকে বিশেষ মাদকবিরোধী র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।