গাজীপুরের শ্রীপুরের পটকা গ্রামের মো. কবিরের ঘরে এখন শুধু কান্নার শব্দ। এক রাতেই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্বল তিনটি গরু চুরি হয়ে গেছে। ৮ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে অজ্ঞাত চোরেরা তার বাড়ি থেকে গরুগুলো নিয়ে যায়।
কবিরের কাছে এই গরুগুলো শুধু পশু ছিল না, ছিল তার পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। বছরের পর বছর কষ্ট করে লালন-পালন করা গরুগুলোই ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস। বিশেষ করে একটি গাভী প্রতিদিন ১৪ কেজি দুধ দিত। সেই দুধ বিক্রি করেই চলত তার সংসারের খরচ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কবির দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, "আমার তিনটা গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। একটা গাভী প্রতিদিন ১৪ কেজি দুধ দিত। দুধ বিক্রি করে সংসার চলত। এখন আমি কীভাবে খাব, কীভাবে সংসার চালাব—তা বুঝতে পারছি না।"
তিনি আরও বলেন, "অনেক কষ্ট করে গরুগুলো বড় করেছি। এগুলোই ছিল আমার পরিবারের ভরসা। এক রাতের মধ্যে আমার সব শেষ হয়ে গেল।"
কবির জানান, চুরি হওয়া তিনটি গরুর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে তার কাছে এই ক্ষতি শুধু টাকার হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের পরিশ্রম, পরিবারের স্বপ্ন এবং বেঁচে থাকার অবলম্বন।
এদিকে, একই রাতে একই গ্রাম থেকে আরও দুই ব্যক্তির গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাদিউল ইসলামের দুটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা। এছাড়া আজিজুলের একটি গরুও চুরি হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা। একই রাতে তিনটি বাড়িতে গরু চুরির ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, "আমি গতকাল ছুটিতে এসেছি। ফেসবুকে গরু চুরির বিষয়টি দেখেছি। এ সময় সার্কেল স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। গরু চুরির বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"