যশোর শহরের মুসলিম একাডেমি বই মার্কেটে দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মার্কেটে অজুখানা, শৌচাগার, গভীর নলকূপ ও অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত জায়গা নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষকদের নামে দোকান হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছ। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে ভৈরব চত্বর থেকে রেজিস্ট্রি অফিস পর্যন্ত নদীতীর সৌন্দর্য্যবর্ধন ও সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে একদিনের নোটিশে নদীপাড়ের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুসলিম একাডেমি বই মার্কেটে ৪৪টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মার্কেটে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে অজুখানা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ এবং অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণের উদ্দেশ্যে ৪৪ টি দোকানের মধ্যে ৬টি দোকান ছোট করে একটি নির্দিষ্ট জায়গা সংরক্ষণ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই তৎকালীন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌর কমিশনার মনি চাকলাদার এবং তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জহরআলী ওই সংরক্ষিত স্থানে অজুখানা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ এবং অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মান না করে সে স্থানে শিক্ষকদের নামে ৭টি দোকান বরাদ্দ দেন। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্তে সরকারি পরিকল্পনা ও বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।

সোমবার (১৪ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মুসলিম একাডেমি বই মার্কেট পুস্তক সমিতির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বকেয়া ভাড়া আদায়-সংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি খান মাসুম বিল্লাহ।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, অর্ধশতাধিক দোকান নিয়ে পরিচালিত এ মার্কেটে আজও কোনো শৌচাগার, অজুখানা কিংবা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। বহুবার দাবি জানানো হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, স্কুলের পশ্চিম গেট সংলগ্ন দুটি দোকানের একটি তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জহর আলী ও সহকারি শিক্ষক রাজু আহমেদের যৌথ নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অপর একটি দোকান তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনি চাকলাদার তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দ নিয়ে পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক নুরুল আলম, কামরুজ্জামান, ইকবাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন শিক্ষকের নামে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।তাদের অভিযোগ, শিক্ষক রাজু আহমেদের নামে দুটি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা জানান, শিক্ষকদের নামে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কোনো বিধান তাদের জানা নেই। অভিযোগের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঔদেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব নথি পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে বর্তমান প্রধান শিক্ষক পল্লব কান্তি ঘোষ বলেন, 'আমি অনেক পরে এসেছি। জেলা প্রশাসনের মিটিং থেকে বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

মুসলিম একাডেমি বই মার্কেট পুস্তক সমিতির নেতারা বলেন, যে স্থানটি ব্যবসায়ীদের মৌলিক সুবিধার জন্য যে জায়গাটি সংরক্ষিত ছিল, সেটি পুনরুদ্ধার করে সেখানে দ্রুত অজুখানা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণ করা উচিত। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং মার্কেটে একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং সরকারি পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী সংরক্ষিত স্থানটি পুনরুদ্ধার করে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।