গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নলজানী গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম (৮২) দাবি করেছেন, তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজি রেখে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও তিনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, মুক্তিযোদ্ধার সনদ, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

গত ১৫ জুলাই বিকেলে দৈনিক সংগ্রামের সঙ্গে আলাপকালে নুরুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। দেশমাতৃকার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি বরমীর শাহাবুদ্দিন বিএসসি, কালু মণ্ডলের ছেলে শাহাবুদ্দিন মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁরা গাড়ারন স্কুলে সমবেত হন। পরে বরমী, বরামা ও গোদারা ঘাট হয়ে মনোহরদীর চালাকচর এলাকায় পৌঁছে তিতাস নদী পেরিয়ে কুমিল্লা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যান।

তিনি আরও জানান, সেখানে ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধা একত্রিত হওয়ার পর তাঁদের ভারতের আগরতলার একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। পরে টঙ্গীর হাকিম মাস্টার ও শ্রীপুরের ছফুরউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে অবস্থানের পর বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর উদ্যোগে তাঁদের ভারতের নয়াদিল্লির ওএমপি নগরের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

নুরুল ইসলামের দাবি, সেখানে তিনি ৩৮ দিন সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল তাঁকে।

প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তিনি সিলেট হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সৈলাট এলাকায় শাহাবুদ্দিন কমান্ডারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ঘোলাঘাট এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পরও দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি, সনদ, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব না থাকায় তিনি এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি।

এ বিষয়ে গত ১৬ জুলাই শ্রীপুর উপজেলার বরমী এলাকার শাহাবুদ্দিন বিএসসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, “অনেক দিনের ঘটনা হওয়ায় পুরোপুরি মনে করতে পারছি না। তবে ছবি দেখে মনে হচ্ছে তাঁকে আমি চিনি। তিনি যদি আমার কাছে আসতেন, তাহলে কথা বলে আরও নিশ্চিত হতে পারতাম।”

নুরুল ইসলামের আত্মীয়-স্বজনরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তে তাঁর দাবি সত্য প্রমাণিত হলে দ্রুত তাঁকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, মুক্তিযোদ্ধার সনদ, ভাতা এবং প্রাপ্য সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজউদ্দীনের সঙ্গে কথা হলে তিনি দৈনিক সংগ্রামকে বলেন," বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি গেজেট তালিকায় যদি তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই সরকার নির্ধারিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন।”