কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাঠে উপস্থিতি জানান দেওয়ার কর্মসূচি নিলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামেনি। মঙ্গলবার দলটির পক্ষ থেকে বড় আকারে ঝটিকা মিছিল বের করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্ত দেশের ২/১টি স্থান ছাড়া কোথায় কর্মসূচি পালন করেনি। তারা। যেখানে ঝটিকা মিছিল করেছে সেখানে লোক ছিল ১০/১২জন। বড়ধরনের কোন শোডাউন হয়নি সারা দেশে। এমনকি দলটি গুলিস্তান কেন্দ্রীয় কার্যলয় ছিল যুবদলের দখলে।
আওয়মীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নিয়ে সর্তক ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন, জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা সতর্কতার পাশাপাশি পালন করেছে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। সকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দলটির নেতা-কর্মীদের মাঠে নামার কোনো নৈতিক সাহস নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ দাবী করেন, আওয়ামী লীগ নাশকতা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিল । আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা ভেস্তে দিয়েছে
জানা গেছে, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা বিভিন্ন সময় ভারতের দিলীøতে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ গত ১২ জুন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে বৈঠকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তারাই অংশ হিসেবে গতকাল সারা দেশে মাঠে নামার নিদেশর্না দেয়া ছিল। কিন্তু নিদের্শনা কেউ মানেনি।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ২৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সোমবার পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি। এতে বলা হয়, রমনা থানা পুলিশ ২ জন, ধানমন্ডি থানা ১০ জন, বংশাল থানা ১ জন, খিলক্ষেত থানা ২ জন, কদমতলী থানা ১ জন, মোহাম্মদপুর থানা ৮ জন, মিরপুর থানা ১ জন ও তুরাগ থানা পুলিশ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর আটটি থানার অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ২৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দলটির যেকোনো ধরনের তৎপরতা প্রতিহত করতে রাজপথে ছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আওয়ামী শাসনামলে সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে নেতা-কর্মীরা।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আওয়ামী লীগ মঙ্গলবার মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইছে। ‘তাদের (আওয়ামী লীগ) এই পরিকল্পনাকে আমরা এখন পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছি। আমি আশা করি, তারা কোথাও মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগ কর্মীদের। বাইরে থেকে ঢাকায় আসার পরিকল্পনাও ছিল।
সেই তথ্য আগাম পেয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সে অনুযায়ী তিন দিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোসহ বিভিন্ন চেকপোস্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোবাইল প্যাট্রোল, সাদাপোশাকে টহলের সংখ্যাও বাড়ানো হয়।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বাইরের জেলাগুলো থেকে রাজধানীতে আসার পরিকল্পনা ঠেকাতে ঢাকার প্রবেশমুখ, ট্রেন স্টেশন, বাস স্টেশনসহ সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।