- ২৭৯ রাউন্ড গুলী চালানোর নির্দেশদাতা সায়েম ইমরান ওএসডি
- সরিয়ে দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৯ নাসির উদ্দীন সারোয়ারকে
- রাতের ভোটের ডিসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্রজনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরা টিভি ভবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ২৭৯ রাউন্ড গুলী চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনারের (এসি) দায়িত্বে থাকা সায়েম ইমরান। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৮ ব্যাচের অফিসার সায়েম ইমরান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।
হাসিনার সরকারের আশীর্বাদে তিনি প্রশাসনের চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন। ওই বছরের ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পর সায়েম ইমরানের থাকার কথা ছিল জেলে। কিন্তু তার কিছুই হয়নি। উলটো টাঙ্গাইলের মত জায়গায় প্রাইজ পোস্টিং পান। তারপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সায়েম ইমরানের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর গত ১৫ জুলাই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৯ হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন সারোয়ারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১, ৪ ও ৫ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা এত দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এপিডি (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পোস্টিং অ্যান্ড ডেপুটেশন) অনুবিভাগে কর্মরত ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমাতে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুলীর নির্দেশ দেওয়া বিতর্কিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। যাদের বিচারের আওতায় আনার কথা ছিল, উল্টো তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে নীতিনির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সূত্র থেকে প্রাপ্ত ৯৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা এবং তাদের বর্তমান পদায়ন বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় মাঠে থেকে এই কর্মকর্তারাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলীর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের উপর গুলীর নির্দেশদাতা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুলীর নির্দেশ দেয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ৯৫ জনের তালিকার এবং সারাদেশের তিন শতাধিক কর্মকর্তাদের চিহিৃত করা হয়েছে। তালিকায় থাকা এসব কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ হাসিনার পতনের আগে জুলাইয়ের ক্র্যাকডাউন সফল করতে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত অথবা তৎকালীন ক্ষমতাসীনের অনুগত কর্মকর্তারা ছিলেন অনেকটা বেপরোয়া। এদের বেশির ভাগকে অনেকটা বাছাই করে নামানো হয়েছিল আন্দোলন দমাতে। গোয়েন্দা সংস্থার ‘ইতিবাচক’ রিপোর্টের ভিত্তিতে এই বিশেষ কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে তখন রাস্তায় নামায় সরকার। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর তাদের অনেকেই রাতারাতি খোলস বদলে বর্তমান সরকারের আমলেও বাগিয়ে নিয়েছেন প্রভাবশালী সব পদ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থী, সাধারন মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কমীদের উপর গুলীর নির্দেশদাতা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তালিকা চুড়ান্ত করেছে। তাদের আগে ওএসডি করা হবে। এর পরে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
নিকারুজ্জামান (তালিকার ৫৭ নম্বর)। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই উপসচিব ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭ এবং ৩০ জুলাই রামপুরাসহ বিভিন্ন সহিংস এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে ছিলেন। তার বাবা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ছোট ভাই দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এর আগে কক্সবাজারের উখিয়ার ইউএনও থাকাকালীন বিতর্কিত ‘রাতের ভোটে’ সহায়তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম মুনিম লিংকন ৩০ জুলাই পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আক্তারুজ্জান ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা আকলিমা বেগম ওই সময় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তাকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (গাড়ি সেবা শাখা) মইন উদ্দিন ইকবাল ৪ আগস্ট ঢাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলমগীর কবীর ৪ আগস্ট হানিফ ফ্লাইওভার, শনির আখড়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্নেহাশীষ দাশ ১ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত রামপুরা-বাড্ডাসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুজিৎ দেবনাথ জুলাই ২০২৪ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খন্দকার রবিউল ইসলাম জুলাই এবং ৫ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন পদায়ন হওয়া সচিব মো. আতাউর রহমান খানের একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন হওয়া কর্মকর্তার নাম শেখ শামসুল আরেফিন। গুলীর নির্দেশদাতা ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকায় এই কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তিনি গত ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট ইসিবি এবং রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। একই মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সিনিয়র সহকারী সচিব মেহেদী হাসান। এ কর্মকর্তা ৩১ জুলাই রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আশরাফুজ্জামান এ কর্মকর্তা জুলাইয়ের ৩১ তারিখ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দেবাংশু কুমার সিংহের নাম রয়েছে। এই কর্মকর্তা আগস্টের ১, ২, ৩, ৫ তারিখ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পালন করেছেন। একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাসুদ রানা এ কর্মকর্তা ৪ এবং ৫ আগস্ট মতিঝিল-হানিফ ফ্লাইওভারে দায়িত্ব পালন করেন।
গুরুত্বপূর্ণ পদে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও তালিকার তথ্যানুযায়ী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ৫১ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সব কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকার বাইরে বদলি করলেও বেশির ভাগই ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন। আব্দুল্লাহ আল রনী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এবং রাফে মোহাম্মদ আশুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মৌসুমী নাসরিন মানিকগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে বহাল থাকা সাদিয়া আক্তার নারায়ণগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি), নুসরাত নওশীন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে বহাল, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে,মনিষা রানী কর্মকার শিবালয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আসিফ রহমান নবাবগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি), শাইখা সুলতানা শিবচরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া গত ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্টের ৫ তারিখ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় ম্যাজিস্ট্রেসির প্রায় তিন শতাধিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের শাস্তির আওতায় আনছে সরকার।
রাতের ভোটের ডিসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসর এবং ৩৩ জন জেলা প্রশাসককে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছিল অর্ন্তবর্তী সরকার। সে সময়কার সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল এসব ডিসির চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে। সম্প্রতি ওএসডি থাকা ৩৩ জেলা প্রশাসকের ২৫ বছর পূর্ণ হলেও তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে গড়িমসি করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী দেশ-বিদেশে ‘রাতের ভোটের নির্বাচন’ নামে কুখ্যাতি পায়। বাস্তবে জালিয়াতি ও প্রতারণাপূর্ণ ওই নির্বাচনে মানুষকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। ভোট গ্রহণের আগের রাতেই দলীয় কর্মী, পুলিশ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যালট বাক্স ভরে রাখেন। প্রহসনের ওই নির্বাচনের যাবতীয় খরচ কার্যত ছিল রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং আত্মসাৎ।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ৮ আগস্ট রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত ওই নির্বাচনের বিষয়ে তদন্তে নামে। এরই অংশ হিসেবে বিতর্কিত জেলা প্রশাসকদের তালিকা চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তৎকালীন জেলা প্রশাসকদের সম্পর্কে প্রতিবেদন নেয়া হয়। অধিকাংশ সাবেক ডিসি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। আর্থিক অনিয়ম সম্পর্কে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দুদকে জমা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৫৪ জনকে ওএসডি করা হয়।
বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার তালিকায় যারা রয়েছেন তারা হলেন,পটুয়াখালীর রাতের ভোটের জেলা প্রশাসক মো: মতিউল ইসলাম চৌধুরী,পঞ্চগড়ের সাবেক ডিসি সাবিনা ইয়াসমিন, মেহেরপুর ও টাঙ্গাইলের সাবেক ডিসি মো: আতাউল গনি, পিরোজপুরের সাবেক ডিসি আবু আলী মো: সাজ্জাদ হোসেন, সিলেটের সাবেক ডিসি এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সাতক্ষীরার সাবেক ডিসি এস এম মোস্তফা কামাল, লক্ষ্মীপুরের সাবেক ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি মোছা: সুলতানা পারভীন, কিশোরগঞ্জের সাবেক ডিসি মো: সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, খাগড়াছড়ির সাবেক ডিসি মো: শহিদুল ইসলাম, খুলনার সাবেক ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, মাগুড়ার সাবেক ডিসি মো: আলী আকবর, বান্দরবানের সাবেক ডিসি মো: দাউদুল ইসলাম, চাঁদপুরের সাবেক ডিসি মো: মাজেদুর রহমান খান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক ডিসি এ জেড এম নুরুল হক,
বরিশালের সাবেক ডিসি এস এম আজিয়র রহমান, ভোলার সাবেক ডিসি মো: মাসুদ আলম সিদ্দিক, চুয়াডাঙ্গার সাবেক ডিসি গোপাল চন্দ্র দাশ, বরগুনার সাবেক ডিসি কবীর মাহমুদ, দিনাজপুরের সাবেক ডিসি মো: মাহমুদুল আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাবেক ডিসি হায়াত-উদ-দৌলা খান, কুমিল্লার সাবেক ডিসি মো: আবুল ফজল মীর, নেত্রকোনার সাবেক ডিসি মঈন উল ইসলাম, ফেনীর সাবেক ডিসি মো: ওয়াহিদুজ্জামান, রাঙ্গামাটির সাবেক ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ, রাজশাহীর সাবেক ডিসি এস এম আব্দুল কাদের, ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক ডিসি ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম, শরীয়তপুরের সাবেক ডিসি কাজী আবু তাহের, নওগাঁ ও ময়মনসিংহের সাবেক ডিসি মো: মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, শেরপুরের সাবেক ডিসি আনার কলি মাহবুব, নরসিংদীর সাবেক ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, হবিগঞ্জের সাবেক ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ।
ওএসডির পরেও এখনো বহাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক ডিসি এ জেড এম নুরুল হক : গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ওএসডি করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক ডিসি এ জেড এম নুরুল হকে। একই সাথে ৩৩ জন রাতের ভোটের ডিসিকে ওএসডি করার পর একমাত্র এই কর্মকর্তাকেই মন্ত্রণালয় থেকে অবমুক্ত করা হয়নি। এর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এই কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।